Header Ads

সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ | Bangla Hadis


সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে  নিষেধ | Bangla Hadis

হে বৎস! নামায পড়িতে থাক, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে  নিষেধ করিতে থাক এবং তোমার উপর যে বিপদ আসে উহাতে ধৈর্য ধারণ কর। নি:সন্দেহে ইহা হিম্মতের কাজ। (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৭) (বয়ানুল কুরআন)
          এই আয়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ এবং যাবতীয় কামিয়াবীর চাবিকাঠি। কিন্তু আমরা এই বিষয়গুলিকেই বিশেষভাবে পিছনে ফেলিয়া রাখিয়াছি। সৎকাজের আদেশ সম্পর্কে তো বলাই বাহুল্য; উহা তো প্রায় সকলেই ছাড়িয়া দিয়াছি। নামায যাহা সকল এবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ঈমানের পর যাহার স্থান সর্বাগ্রে উহার প্রতিও কি পরিমাণ অবহেলা প্রদর্শন করা হয়। যাহারা নামায পড়ে না তাহাদের কথা বাদ দিলেও স্বয়ং নামাযী লোকেরাও উহার প্রতি পুরাপুরি গুরুত্ব দেয় না; বিশেষ করিয়া জামাতের প্রতি। নামায কায়েম করা দ্বারা জামাতের সহিত নামায আদায় করার প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে। উহা কেবল গরীবদের জন্য রহিয়া গিয়াছে; ধনী ও সম্মানী লোকদের জন্য মসজিদে যাওয়া যেন একটি লজ্জার ব্যাপার হইয়া দাঁড়াইয়াছে। সকল অভিযোগ একমাত্র আল্লাহর দরবারে (কবি বলেন-) ................................................... ......................
অর্থাৎ: তোমার জন্য যাহা লজ্জার বিষয় আমার জন্য উহা গৌরবের বিষয়।
আরবি লেখা

৫। তোমাদের মধ্য হইতে একটি জামাত এমন হওয়া জরুরী; যাহার মঙ্গলের দিকে আহ্বান করিবে, সৎকাজে আদেশ করিবে ও অসৎকাজে নিষেধ করিবে তাহারাই পূর্ণ কামিয়াব হইবে। (সূরা আলি ইমরান, আয়াত: ১০৪)
          আল্লাহ পাক এই আয়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষযের নির্দেশ দান করিয়াছেন। উহা এই যে, উম্মতের মধ্যে একটি জামাত বিশেষভাবে এই কাজের জন্য থাকিতে হইবে, যাহারা ইসলামের দিকে লোকদিগকে তবলীগ করিবে। এই হুকুম মুসলমানদের জন্য ছিল। কিন্তু আফসোসের বিষয় যে, এই বুনিয়াদি কাজকে আমরা একেবারেই ছাড়িয়া দিয়াছি। অথচ বিধর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উহাকে আঁকড়াইয়া ধরিয়াছে। খৃষ্টানদের স্বতন্ত্র দলসমূহ দুনিয়াব্যাপী তাহাদের ধর্ম প্রচারের জন্য নির্দিষ্ট রহিয়াছে, অনুরুপভাবে অন্যান্য জাতির মধ্যেও এই কাজের জন্য নির্ধারিত কর্মী রহিয়াছে। কিন্তু প্রশ্ন হইল মুসলমানদের মধ্যেও কি এউরুপ নির্দিষ্ট কোন জামাত আছে? ইহার উত্তরে 'নাই' না বলিলেও 'আছে' বলাও মুশকিল। বরং কোন জামাত বা ব্যক্তি যদি এই কাজের জন্য দাঁড়ায়ও তবে সাহায্য ও সহযোগিতার পরিবর্তে তাহাদের বিরুদ্ধে নানা ধরণের প্রশ্ন উঠাইয়া এমন চাপ সৃষ্টি করা হয় যে, শেষ পর্যন্ত তাহারা ক্লান্ত হইয়া বরিয়া পড়ে। অথচ এইকাজে সাহায্য ও সহানুভূতি করা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকিলে উহার সংশোধন করাই ছিল প্রকৃত হিতকামনা। পক্ষান্তরে, নিজে কোন কাজ না করিয়া যাহারা করে তাহাদের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠানো কাজ হইতে তাহাদিগকে ফিরাইয়া রাখারই নামান্তর। 

No comments